সময়কাল নিউজ
সময়কাল নিউজ

উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার ছাড়াই প্রসূতির সন্তান প্রসব

নিজস্ব প্রতিনিধি : ৫০ শয্যা বিশিষ্ট বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পর প্রসূতি পারুল (২৮) কোন প্রকার অস্ত্রোপচার ছাড়াই সাধারণ প্রক্রিয়ায় ছেলে সন্তানের জন্ম দিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এই প্রথম সাধারণ প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসব হয়। স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কোন প্রকার অস্ত্রোপচার ছাড়াই সন্তান জন্ম হওয়া প্রসূতি সহ তার পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবাই খুশি এবং আনন্দিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে প্রথম বারের মতো কোন প্রকার অস্ত্রোপচার ছাড়াই সাধারণ প্রক্রিয়ায় প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। প্রসূতি পারুল বেগম উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের টানগেরাগাঁও গ্রামের সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালক সাহিদ মিয়ার স্ত্রী। নবজাতক ও তার মা বর্তমানে সুস্থ আছেন।

স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রসবের ব্যাথা নিয়ে ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পারুল বেগমকে নিয়ে আসেন তার আত্নীয়-স্বজনরা। নিয়ে আসার পর পারুলকে ভর্তি করানো হয়। সিজার না করে স্বাভাবিক ডেলিভারির সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক। পরে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাসুমের দিকনির্দেশনায় ডাঃ ইয়াছমিন আক্তার ও ডাঃ শাউলিন জাহানের তত্বাবধানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। প্রসূতির পরিবারের পক্ষ থেকে সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি করার ইচ্ছা থাকলেও স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের চিকিৎসকগণ নরমাল ডেলিভারি করানোর পরামর্শ দেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে স্বজনরা নরমাল ডেলিভারি করাতে ইচ্ছাপোষণ করেন। পরে পারুল কে নিবির পর্যবেক্ষনে রাখা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাসুমের দিকনির্দেশনায় ডাঃ ইয়াছমিন আক্তার ও ডাঃ শাউলিন জাহানের তত্বাবধানে রাত ১ টার দিকে কোন প্রকার অস্ত্রোপচার ছাড়াই ফুটফুটে ছেলে সন্তান প্রসব করেন ওই গৃহবধূ।

প্রসঙ্গ, উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সেটি অবকাঠামোগত সবকিছু থাকলেও জনবল সংকট আর পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি না থাকায় পূণাঙ্গ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। করোনাকালে জেলার একমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারাইন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয় এ স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটি। এ স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে ডাঃ মোঃ মাসুম যোগদানের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সিভিল সার্জনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গত ২ মে আন্তঃবিভাগ চালু করা হয়। পরে কোভিট-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউের কারণে এ স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সকে আবারো প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারাইন্টাইন ও আইসোলেশন বিভাগ চালু করায় আন্তঃবিভাগের কার্যক্রম প্রায় ৪ মাস বন্ধ থাকে। বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আসার পর গতকাল শুক্রবার থেকে পুনরায় আন্তঃবিভাগ চালু করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাসুম জানান, সিজার ছাড়াই প্রসূতির সন্তান প্রসব হয়েছে। এমন ব্যতিক্রম ও প্রশংসনীয় ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলেন বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স। আমরা চাচ্ছি সিজার কমিয়ে কোন প্রকার অস্ত্রোপচার ছাড়াই সাধারণ প্রক্রিয়ায় সন্তানের জন্মদানে মায়েদের আগ্রহী বাড়াতে। নরমাল সন্তান প্রসব হলে প্রসূতির জন্য মঙ্গলজনক।

সময়কাল নিউজ