সময়কাল নিউজ
সময়কাল নিউজ

টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং প্রশাসনের

সময়কাল ডেক্স:
টানা দু’দিনের বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
মসজিদ থেকেও মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। নিজ থেকে সরে না যাওয়ায় শুক্রবার সকালে শতাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, নগরীর প্রায় ১৬ থেকে ১৭টি পাহাড়ে এক হাজারের মতো পরিবার বসবাস করে আসছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে নগরীতে ১৫টি আশ্রয়ম কেন্দ্র খোলা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে নগরীর ছয়টি সার্কেলের সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সমন্বয়ে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।

কাট্টলি সার্কেলের অধীনে পি ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফিরোজ শাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়, বায়তুল ফালাহ আদর্শ মাদ্রাসা, পাহাড়তলি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও খুলশী জালালাবাদ বাজারসংলগ্ন শেড আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আগ্রাবাদ সার্কেলের অধীনে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে- লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদনগর উচ্চ বিদ্যালয়, পোড়া কলোনির মুখে আশ্রয় কেন্দ্র, গরিব উল্লাহ হাউজিং সোসাইটির শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, মতিঝর্ণা ইউসেফ স্কুল (একে খান পাহাড়)।

এছাড়া চান্দগাঁও সার্কেলের অধীন আমিন জুট মিলস সংলগ্ন পাহাড়, ভেড়া ফকিরের পাহাড় ও ট্যাংকির পাহাড় এলাকার জন্য রউফাবাদ রশিদিয়া মাদ্রাসাসহ কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বাকলিয়া সার্কেলের অধীন মতিঝর্ণা, বাটালি হিলের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গার জন্য লালখান বাজার শহীদনগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এনায়েত বাজার এবাদ উলাহ পণ্ডিত প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এনায়েত বাজার কলিম উল্লাহ মাস্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী এসব পাহাড়ে অবৈধভাবে প্রায় এক হাজার পরিবার বসবাস করছে। এসবের মধ্যে রেলওয়ে, সওজ, গণপূর্ত অধিদফতর ও ওয়াসার মালিকানাধীন মতিঝর্ণা ও বাটালি হিলে ১৬২টি পরিবার, পূর্ব ফিরোজ শাহ এক নম্বর ঝিলসংলগ্ন পাহাড়ে ২৮টি পরিবার, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মালিনাকানাধীন কৈবল্যধাম বিশ্ব কলোনি পাহাড়ে ২৮টি পরিবার, পরিবেশ অধিদফতরসংলগ্ন সিটি কর্পোরেশন পাহাড়ে ১০টি পরিবার, রেলওয়ের লেকসিটি আবাসিক এলাকাসংলগ্ন পাহাড়ে ২২টি পরিবার, ব্যক্তিমালিকানাধীন একে খান পাহাড়ে ২৬টি পরিবার, হারুন খানের পাহাড়ে ৩৩টি পরিবার, পলিটেকনিক কলেজসংলগ্ন পাহাড়ে ৪৩টি পরিবার, মধুশাহ পাহাড়ে ৩৪টি পরিবার, ফরেস্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটসংলগ্ন পাহাড়ে ৩৩টি পরিবার, মিয়ার পাহাড়ে ৩২টি পরিবার, আকবর শাহ আবাসিক এলাকাসংলগ্ন পাহাড়ে ২৮টি পরিবার, আমিন কলোনি সংলগ্ন ট্যাংকির পাহাড়ে ১৬টি পরিবার, ফয়’স লেক আবাসিক এলাকাসংলগ্ন পাহাড়ে ৯টি পরিবার এবং এমআর সিদ্দিকী পাহাড়ে আটটি পরিবার, লালখান বাজার জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসাসংলগ্ন পাহাড়ে ১১টি পরিবার, ভেড়া ফকিরের পাহাড়ে ১১টি পরিবার বসবাস করে আসছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামে দু’দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মহানগরীর সংশ্লিষ্ট সার্কেলের সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সমন্বয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ১৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ে পাহাড়ে মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসা থেকেও নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।

২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ১২৯ জন মারা যায়। এ ঘটনার পর থেকে প্রতি বছর পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদে প্রশাসনে তোড়জোড় দেখা যায়। বর্ষা এলেই ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের উচ্ছেদে নামে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদফতর। ফেব্রুয়ারিতে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়।

চলতি বছরের জুনের শেষদিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোডের দু’পাশে পাহাড় কেটে ও অবৈধভাবে গড়ে তোলা ৩৫০ স্থাপনা উচ্ছেদ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ১৬টি পাহাড়ে অভিযানে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়ি উচ্ছেদের পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুতের ৩০টি মিটার জব্দ করা হয়।

নবনির্মিত সিডিএ লিংক রোডের দু’ধারে করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দুই মাসে (এপ্রিল-মে) পাহাড় কেটে সরকারি জমিতে প্রচুর নতুন ঘর গড়ে তোলা হয়। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের যৌথ উদ্যোগে এবং সিএমপি ও রেলওয়ের সহযোগিতায় সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সময়কাল নিউজ