সময়কাল নিউজ
সময়কাল নিউজ

বাইডেনকে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ পুতিনের

সময়কাল ডেস্ক :মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে (৭৮) লাইভ বিতর্কের আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (৬৮)। বিতর্কের জন্য শুক্রবার অথবা সোমবারকে সম্ভাব্য দিন হিসেবে প্রস্তাব করেছেন তিনি।

‘হত্যাকারী’ মন্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ পুতিন বৃহস্পতিবার ‘লাইভ’ বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি পরোক্ষাভাবে বাইডেনকেও ‘খুনি’ বলে পালটা চপোটাঘাত করেন পুতিন। খবর এএফপির।

বাইডেনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে পুতিন বলেন, ‘আমাদের আলোচনা অব্যাহত রাখতে আমি বাইডেনকে আমন্ত্রণ জানাতে চাই। তবে এক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে যে আমাদের এ আলোচনা কার্যকরভাবে সরাসরি সম্প্রচার করতে হবে।’

তিনি বলেন, এটি একটি ‘সরাসরি উম্মুক্ত আলোচনা হবে যাতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ‘স্বার্থ’ থাকবে। এএফপি। বুধবার এবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পুতিনকে ‘হত্যাকারী’ বলেন বাইডেন। রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সি নাভালনিকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

টেলিভিশন বক্তব্যে পুতিন আরও বলেন, আমার মনে আছে, শৈশবে যখন আমরা মাঠে তর্ক করতাম, তখন বলতাম : যে বলেছে, সে-ই করেছে। এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা, শিশুতোষ মন্তব্য কিংবা রসিকতা নয়। এর মনোস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা অনেক গভীর। বাইডেনকে খোঁচা দিয়ে পুতিন বলেন, আমরা সবসময় নিজের বৈশিষ্ট্যগুলোই অন্যদের মধ্যে দেখতে পাই এবং মনে করি, আমরা আসলে যেমন তারা তেমনই। এভাবেই আমরা (অন্যের) কার্যকলাপ মূল্যায়ন করি।

এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস সম্পর্কে কথা বলেন। স্থানীয় আমেরিকানদের ওপর গণহত্যা, দাসত্ব ও কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে জাপানে পারমাণবিক বোমা ফেলার কথা উল্লেখ করেন পুতিন।

তিনি বলেন, তারা ভাবেন, আমরা তাদের মতো। কিন্তু আমরা আলাদা। আমাদের জিনগত ও সাংস্কৃতিক নৈতিক ভিত্তি আলাদা।

পুতিন বলেন, আমরা যেসব ক্ষেত্র নিজের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করব, সেসব ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে কাজ করব। আমাদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা, আমাদের নিষেধাজ্ঞা এবং আমাদের অপমানের বিষয়গুলো তাদের মোকাবিলা করতে হবে। রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তিনি (বাইডেন) যেমন বলেছিলেন, আমরা একে অপরকে ব্যক্তিগতভাবে জানি।

আমি তাকে কী উত্তর দেব? আমি বলব, আমি আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যে বিগত অনেক বছরের মধ্যে দেশ দুটির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় সংকট সৃষ্টি করেছে। ওইদিনই ওয়াশিংটনে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে মস্কোতে তলব করেছে রাশিয়া। সাম্প্র্রতিক কূটনীতির ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

আলাস্কায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় : সম্পর্কের বরফ গলানোর লক্ষ্যে বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে প্রথমবার মুখোমুখি হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন চীনা কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় গণমাধ্যমের সামনেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছে দুই পক্ষ। খবরে বলা হয়, এদিন চীনা কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধ অন্য দেশগুলোকে চীন আক্রমণে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

আর মার্কিন প্রশাসনের দাবি-চীনারা ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্য নিয়েই বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের অংশ হিসাবে ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান।

অন্য দিকে, চীনের পক্ষে ছিলেন দেশটির সর্বজ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্র কর্মকর্তা ইয়াং জিয়েচি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্লিংকেন কড়া ভাষায় বলেন, শিনজিয়াং, হংকং ও তাইওয়ান ইস্যুর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলা ও তাদের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক শত্রুতা প্রসঙ্গে চীনের উদ্বেগজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন আলোচনা করতে পারে।

আমেরিকার কংগ্রেসে ‘ড্রিমার্স’ বিল পাস

অবশেষে অভিবাসীদের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। আমেরিকার কংগ্রেসে ‘ড্রিমার্স’ নামের অভিবাসন বিলটি পাস হয়েছে। অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্পের হার্ডলাইনকে পেছনে ফেলে পাস করা এ বিল বাইডেন সরকারকে আরও জনপ্রিয় করে তুলছে দেশটির অভিবাসী শিবিরে।

বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নিুকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে পাস হয় ২২৮/১৯৭ ভোটে বিলটি। এর ফলে আইনিভাবে অনেক অভিবাসীর নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ খুলে গেল। এ আইনে অপ্রাপ্তবয়স্ব শিশু- যারা অস্থায়ীভাবে আমেরিকায় বসবাস করছেন এবং ছোটবেলায় আমেরিকায় এসেছেন (ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভেলস- ডাকা), তারাই এ বিলের আওতায় নাগরিকত্ব পাবেন।

সংক্ষেপে ‘ড্রিমার্স’ বলা হলেও বিলটি আমেরিকান ড্রিম অ্যান্ড প্রমিজ অ্যাক্ট ২০২১ নামেই পাস হয়েছে। যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে পালিয়ে আসা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদায় বসবাসকারী অনেক অভিবাসী এই বিলের আওতায় গ্রিন কার্ড পাবেন। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এ বিলের সুবাদে প্রায় ৪৪ লাখ লোককে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে পারে।

এদিন পাস হওয়া আরেকটি বিল অনিবন্ধিত খামারিদেরও আইনি মর্যাদা দেবে। তবে ‘ড্রিমার্স’ বিলের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে- বিভিন্ন দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিশুরা ১০ বছরের জন্য শর্তসাপেক্ষে নাগরিকত্ব পাবেন।

কংগ্রেসে বিলটি পাসের আগে বিতর্ক চলাকালে ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি প্রমিলা জয়পাল বলেন, ‘আসুন, অভিবাসীদের অপরাধী করার ভণ্ডামি বন্ধ করুন।’ অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো এ খবর উদযাপন করেছে। তারা প্রচার করছেন, এটা তাদের আন্দোলনেরই ফল। তারা প্রায় একইসুরে বলেন, ‘আমাদের এটা উদযাপন বন্ধ হবে না, চলতেই থাকবে।’

সময়কাল নিউজ