সময়কাল নিউজ
সময়কাল নিউজ

বিজয়নগরে শিক্ষা অফিসার মাজহারুল হুদার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

সময়কাল নিউজ ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস চলছে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে তবে এই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড় পরিমাণ অভিযোগ। অর্থ ছাড়া মিলে না এ শিক্ষা অফিসে কোন সেবাই। উপজেলার শিক্ষকরা ভয়ে তার এ অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খোলতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসে দুই জন সহকারি শিক্ষা অফিসার কর্মরত রয়েছে। এরই মধ্যে মাজহারুল হুদা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ী সদর উপজেলায়। তিনি না কি স্থানীয় এমপির নিকটতম আত্নীয় পরিচয় দিয়ে বেড়ান। এ উপজেলায় দীর্ঘদিন যাব পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা অফিসার না থাকায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার দিয়েই চলছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। এতে করে প্রাথমিক শিক্ষার সুষ্ঠু কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তিনি এ অফিসে যোগদানের পর থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দূর্নীতি আর অনিয়মের মাত্রা বেড়েই চলছে। এতে করে শিক্ষা অফিসার মাজহারুল হুদার বিরুদ্ধে পাহাড় পরিমাণ অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিভিন্ন ভাবে ঘুষ বানিজ্য, দূর্নীতি ও অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে এমনটাই অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার নানা অপর্কম ও দূর্নীতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তিনি এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে এ অফিস অনিয়ম ও দূর্নীতির আখড়া বানিয়েছেন। নানা কলা কৌশলগত দিক দিয়ে শিক্ষকের নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। বদলী বানিজ্য থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি কাজে তাকে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের অর্থ বরাদ্ধ থেকেও তিনি মোটা অংকের পাসের্ন্টেস রেখে মেরামত কাজের চেক হস্তান্তর করেন। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি বরাদ্ধ থেকে ৫শ ও ১ হাজার টাকা করে কেটে রেখে দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়েছে। তিনি প্রতিবছর সরকারি বই বিতরণের সময় কিন্ডার গার্টেন থেকেও টাকা নিয়ে থাকেন। সরকারি বিভিন্ন কাজের কথা বলে শিক্ষকদের নিকট থেকে তিনি চাঁদা উঠিয়ে থাকেন এবং বিদ্যালয় অডিটের নামে নামমাত্র পরিদর্শন করে শিক্ষকদের নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন। প্রতিবছর প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ফি হতে উদ্বৃত টাকা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার উন্নয়নের জন্য ব্যয় করার কথা থাকলেও পুরো টাকায় তিনি আত্নসাৎ করে থাকেন। এ সব বিষয়ে গত বছর ১৭ এপ্রিল উপজেলা শিক্ষা অফিসে সহকারি শিক্ষা অফিসার (এটিএ) মুনসুর সাহেবের সাথেও তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। যাহা তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে মিমাংসা করা হয়েছিল। এছাড়াও তিনি বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে অফিসে এনে অফিসার কাজে সম্পৃক্ত করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। আর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তো হয়রানী আছেই। শিক্ষকদের বিভিন্ন মিটিং ও সেমিনারের আসার যাওয়ার টি এ বিল নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাজহারুল হুদার নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। সাক্ষাতে কথা বলেন বলে মোবাইল ফোনের লাইনটি কেটে দেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মেহের নিগার বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। আসলেই বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাজ্জাত হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ভাবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সময়কাল নিউজ