সময়কাল নিউজ
সময়কাল নিউজ

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আজ দরকার প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থা

সময়কাল ডেস্ক :স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ, নিরাপদ পানি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ইত্যাদি কারণে সারা বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত।

করোনার তাণ্ডবে দরিদ্র দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোও দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস।

দিবসটির এবারে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়েছে ‘সকলের জন্য বৈষম্যহীন ও স্বাস্থ্যকর বিশ্ব গড়ি’। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রতিকারমূলক চিকিৎসায় বিনিয়োগ না করে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে সচেতন করতে হবে। সংক্রামক রোগের পাশাপাশি অসংক্রামক রোগের মহামারি থেকে বাঁচাতে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহামারির কারণে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ। করোনাভাইরাসের মহামারির শুরু পরে ৩১ মে নাগাদ এক লাফে ওই দরিদ্র শ্রেণির মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৮০ লাখে। অর্থাৎ কোভিড-১৯-এর কারণে মাত্র দুই মাসে নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। এ প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশের সব মানুষের টিকা নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি যতটা সম্ভব বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত বা স্বাস্থ্য বিমার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের বা বেসরকারি পর্যায়ে চাকরিজীবীদের চাকরির বা কাজের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় নজর দিতে হবে। সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতাদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নয়তো এ ধরনের মহামারি এলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অ্যাপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, কোভিডকালীন আমরা আমাদের স্বাস্থ্যের দুর্বলতাগুলো বুঝতে পেরেছি। এ ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এসব ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত বেশি অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। তাছাড়া সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে আগ্রহী হতে হবে। যেমন খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও তামাকমুক্ত দেশ গড়তে পারলে অসংক্রামক রোগের মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশাল মেডিসিন-নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়েজিদ খুরশিদ যুগান্তরকে বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য প্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিকারমূলক চিকিৎসানির্ভর। এ ধরনের ব্যবস্থায় হাসপাতাল নির্মাণ, যন্ত্রপাতি কেনাকাটা ইত্যাদির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু যেকোনো ধরনের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া দরকার। সুন্দর পরিবেশ, নিরাপদ পানি এবং বিষমুক্ত খাদ্যের নিশ্চয়তা নীরোগ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রাক্কালে ওয়াটারএইড বিশ্ব নেতাদের কাছে কমপক্ষে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিলের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, কোভিড-১৯সহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকিতে আছে বিশ্বের ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন মানুষ। এর কারণ তারা যে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যান বা কাজ করেন, সেখানে প্রাথমিক পানি পরিষেবার অভাব রয়েছে। রোগের বিস্তার ঠেকানোর অন্যতম কার্যকর উপায় চিকৎসক, নার্স এবং রোগীদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা। সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে, বিশেষত যেসব দেশে পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট এবং হাত ধোয়ার যথাযথ ব্যবস্থার জন্য সহায়তা প্রয়োজন, তাদের সাহায্যার্থে এই অর্থ প্রয়োজন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়েছে। তবে করোনা মহামারির কারণে আড়ম্বরপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠান করা হচ্ছে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চরম রক্তক্ষয়ী ও প্রাণঘাতী অভিজ্ঞতার ফলে বিশ্বের প্রায়-সব রাষ্ট্রই একমত হয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে আন্তর্জাতিক সংগঠন জাতিসংঘ গঠন করে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পরের বছর ১৯৪৬ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রূপরেখা তৈরির জন্য একটি অন্তর্র্বর্তীকালীন কমিশন গঠন করা হয়। অন্তর্র্বর্তীকালীন এই কমিশনের মতামতের আলোকে ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল গঠন করা হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বিশ্বের মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং জীবন রক্ষার শপথে পরিচালিত হতে থাকে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রথম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠার দুই মাসের মাথায় ১৯৪৮ সালের ২৪ জুন। নির্ধারিত দিনে জেনেভায় সংস্থাটির প্রথম সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ৪৬টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।

প্রতিনিধিদের আলোচনার ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের কথাটি উঠে আসে এবং সেই সম্মেলন থেকেই সিদ্ধান্ত হয় যে, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ১৯৫০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হবে।

সময়কাল নিউজ