সময়কাল নিউজ
সময়কাল নিউজ

মাধবপুরে অবৈধ অটোরিকশা গ্যারেজ যেনো মরণ ফাঁদ দেখার কেউ নেই

লিটন পাঠান,মাধবপুর প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ব্যাঙ্গের ছাতার মতই গড়ে উঠছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা গ্যারেজ। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই মুনাফা হাসিলের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা গ্যারেজ।দিনদিন অটো রিকশা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলেই বাড়ছে অটো রিকশা চার্জিং গ্যারেজ।হাইকোর্টের এক রায়ে ইতিমধ্যে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা গুলোকে চলাচলে অবৈধ ঘোষণা করলেও স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সহ উপজেলার সকল ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায় এইসব অটোরিকশা চলতে দেখা যায়।যার ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে যানযট ও মহাসড়কে ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।

ফলে অকালে ঝড়ছে অনেক তাজা প্রাণ।সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরন করেছে অনেকেই।এইসব ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বৈদ্যুতিক চার্জের মাধ্যমে চলে।যার জন্য এলাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অটো রিকশাগুলো চার্জ দেয়ার জন্য গড়ে তুলছে অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজ।যার ফলে বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে ও বাড়ছে বিদ্যুতের ঘটতি। মাধবপুর পৌরসভাতেই প্রায় ১৮ টি অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজ আছে।এছাড়াও উপজেলার প্রত্যেকটা ইউনিয়নেই চার্জিং গ্যারেজ আছে। সরেজমিনে গিয়ে এইসব চার্জিং গ্যারেজগুলো ঘুরে দেখা যায় যে কোন গ্যারেজই বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনের বা ওয়ারিংয়ের কোন নিয়ম নীতি না মেনেই চার্জিং কার্যক্রম চালাচ্ছে।

চার্জিং স্টেশন তৈরি করে চার্জ দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা মেলেনি এর কোন চিত্র।চার্জিং গ্যারেজগুলোতে যত্রতত্র ভাবে রিকশা চার্জ দেয়া হচ্ছে এবং গ্যারেজে বৈদ্যুতিক তারগুলো এলোপাতাড়ি ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সেখানে সেখানে পড়ে আছে।ফলে অটোরিকশা গ্যারেজগুলোকে মনে হয় যেনো মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।অটো রিকশা গ্যারেজে প্রতিদিনই ঘটছে বিদ্যুৎপৃষ্টের মত দুর্ঘটনা।গত এক সাপ্তাহে গ্যারেজে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে ৪জন।

গত১১ সেপ্টেম্বর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে গ্যারেজে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে সাংবাদিক লিটন পাঠানের ছেলে মোঃ ইয়াদুল ইসলাম বিজয় পাঠান (১২) নামে এক স্কুল ছাত্র,১৩ সেপ্টেম্বর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে মোঃসুজন মিয়া(৩০)ও মোঃশাহেদ আলী(৪৫) নামে রিকশা চালক এবং ১৬ সেপ্টেম্বর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের চানখাবুল্লা গ্রামে পরিমল সরকার (৩৩) নামে ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়া প্রতিদিনই গ্যারেজে তড়িতাহিত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছে অনেকেই।

অবৈধভাবে গড়ে উঠা গ্যারেজের ব্যাপারে জানতে চাইলে মাধবপুর জোনাল অফিসের নোয়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোঃআবুল কাশেম জানান, বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরো সচেতন হতে হবে।আমরা ইতিমধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও মাধবপুর থানা পুলিশেকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে আলোচনা করেছি।খবর পেলে অবৈধ গ্যারেজগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিচ্ছি রাতের বেলা বিভিন্ন ইউনিয়নে আমাদের লোকেরা নিয়ম লংঘন করে তৈরি করা।

গ্যারেজগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।তবে চার্জিং এর জন্য কিছু সংখ্যক গ্যারেজের অনুমোদন দিয়েছি।কতগুলো গ্যারেজের অনুমোদন দিয়েছে তার সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি সঠিক সংখ্যার হিসাব জানেন না বলে সময়ের আলোকে জানান।সরকারি আদেশের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন,চার্জিং এর জন্য অটো রিকশা গ্যারেজ নিষিদ্ধকরণের ব্যাপারে আমরা সরকারিভাবে কোন আদেশ পাইনি।

অপরদিকে স্থানীয়রা জানান গ্যারেজ গুলোকে প্রশাসনের নজরদারির ভীতরে নিয়ে আসতে হবে তা না হলে প্রতিনিয়তই অপমৃত্যুর খবর বাড়তে থাকবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন বলেন,জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমরা পল্লী বিদ্যুৎ এর সাথে মিটিং করেছি।এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।লিফলেট বানানো হয়েছে। সচেতন সমাজ মনে করছেন অচিরেই অটোরিকশা ও গ্যারেজগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে না আসলে সমস্যা আরো জঠিল আকার ধারন করবে।

সময়কাল নিউজ