সময়কাল নিউজ
সময়কাল নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষমা চাইতে বলছে রাশিয়া

সময়কাল ডেস্ক :মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘খুনি’ আখ্যা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমা চাইবে বলে মনে করেন রাশিয়ার একজন আইনপ্রণেতা।

যদি এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র দুঃখপ্রকাশ না করে তবে পাল্টা প্রতিশোধের আভাস দিয়েছেন তিনি।

রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের উপ-প্রধান কনস্টান্টিন কসাচয়েভ বলেন, বাইডেনের মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য। এতে ইতিমধ্যে টানাপোড়েনে থাকা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে। নতুন প্রশাসনের অধীন মার্কিন নীতিতে একটা পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের এমন পদমর্যাদার একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এ রকম বক্তব্য আসা করা যায় না। কোনোভাবেই এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য না।

এদিকে মস্কোর সঙ্গে জরুরি পরামর্শ করতে ওয়াশিংটনে রুশ রাষ্ট্রদূত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ছাড়বেন। এতে দুদেশের সম্পর্কের মধ্যে আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

দূতাবাসের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে রুশ দূতাবাস জানায়, আগামী ২০ মার্চ, যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাতলি অন্তোনভ মস্কোর উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ছাড়বেন। সংকটে থাকা রুশ-মার্কিন সম্পর্ক সংশোধনে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে আনাতলির।

রুশ দূতাবাস জানায়, মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হঠকারী মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যকার অতিমাত্রায় সাংঘর্ষিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ার হুমকিতে রয়েছে।

এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘খুনি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার খেসারত দিতে হবে তাকে।

এতে রাশিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরামর্শের জন্য বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে রুশ রাষ্ট্রদূতকে মস্কোতে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া বাইডেনের প্রার্থিতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চেয়েছিল বলে দেশটির গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে বাইডেন বলেন, তাকে (পুতিন) এর খেসারত দিতে হবে।

পুতিনকে তিনি খুনি বলে মনে করেন কিনা জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, হ্যাঁ, তা-ই মনে করি।

বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে পুতিনের বিরুদ্ধে। যদিও রুশ প্রেসিডেন্ট তা অস্বীকার করে আসছেন।

এমন একসময় বাইডেনের এই সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়েছে, যখন নাভালনিকে বিষপ্রয়োগের ঘটনায় শাস্তি হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর রপ্তানি বিধিনিষেধ ঘোষণা করছে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রাশিয়া তার জবাবে ওয়াশিংটন থেকে নিজের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে। কিন্তু জোর দিয়ে বলছে, রাশিয়া দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে অপরিবর্তনীয় অবনতি ঠেকাতে চাচ্ছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে পরামর্শ করতে ওয়াশিংটনে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাতলিকে মস্কোতে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রেবকভ বলেছেন, রুশ-মার্কিন সম্পর্কের অবনতির সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

সময়কাল নিউজ