সময়কাল নিউজ
সময়কাল নিউজ

রোজার দুই মাস আগেই মাঠে ১২ সংস্থা

সময়কাল ডেস্ক :
বাজারে চাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা ও ডালসহ বেশকিছু নিত্যপণ্য বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও পেঁয়াজ, আদা-রসুনের দাম নতুন করে বাড়ানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। রোজায় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকার আগে থেকেই নড়েচড়ে বসেছে। তাই দুই মাস আগেই ১২ সংস্থাকে মাঠে নামানো হয়েছে। সরকারের এই সংস্থাগুলো আমদানি থেকে শুরু করে খুচরা, পাইকারি বাজার ও পণ্য পরিবহন এই চার স্তরে নজরদারি করবে, যাতে রমজানকে পুঁজি করে কেউ অতি মুনাফা করে ভোক্তাকে ঠকাতে না পারে। এ সময় কোনো ধরনের অনিয়ম পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল, শিল্প মন্ত্রণালয়, র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), কৃষি বিপণন অধিদফতর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনিটরিং টিম বাজার তদারকি করবে। পাশাপাশি এই কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, মৎস্য কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধি এবং ক্যাবের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করবে।
তবে সরকারের এসব পদক্ষেপের পরও ভোক্তা পর্যায়ে শঙ্কা কাটছে না। তারা বলছেন, প্রতিবছরই একটি চক্র রমজানকে টার্গেট করে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের পকেট কাটে। ইতোমধ্যে ছোলাসহ চিনি, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, চাল, আটা-ময়দা, আদা-রসুন ও মাংসের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাই এবারও গত কয়েক রমজান মাসের মতো পণ্যের দাম বাড়তি থাকলে হিমশিম খেতে হবে। তবে সঠিকভাবে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে সুফল আসবে।

জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, রমজানে খাদ্যপণ্যের বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এবার যাতে তা না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই সজাগ আছে ও পুরোটা সময় থাকতে হবে। পাশাপাশি পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এখন থেকেই পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়াতে হবে। আমদানি করতে হলে এখন থেকেই আমদানি করতে হবে। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি মূল্য বেশি হলে শুল্ক হ্রাস করা যেতে পারে। সঙ্গে খোলা বাজারে একাধিক পণ্য ভর্তুকি মূল্যে এখন থেকেই বিক্রি শুরু করা যেতে পারে। সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বাজার তদারকি সংস্থাকে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করতে হবে। যাতে ব্যবসায়ীরা পণ্য আনতে গিয়ে রাস্তায় চাঁদাবাজির শিকার না হন। এটা বন্ধ করা গেলে সারা বছরই পণ্যের দাম সহনীয় থাকবে।

সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আমরা অভ্যন্তরীণ বাজার প্রতিনিয়ত ফলোআপ রাখছি। রমজান মাসকে সামনে রেখে সব পণ্য নিয়ে আমরা চিন্তা করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, রমজানে যাতে মানুষের কষ্ট না হয়। তাই রমজানে যাতে মানুষ সাশ্রয়ী দামে পণ্য পায়, এ জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর এসব বিষয়ে নজর রাখার জন্য আমাদের কমিটি, ট্যারিফ কমিশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এছাড়া রমজানে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যেন সংকট না হয়, সেজন্য সরকারের একাধিক সংস্থা কঠোর মনিটরিং করছে।

জানতে চাইলে বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, এবার কোনোভাবে অসাধুদের সুযোগ দেওয়া হবে না। অধিদফতরের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সারা দেশে বাজার তদারকি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রমজান উপলক্ষে বিশেষভাবে বাজার তদারকি টিম কাজ শুরু করেছে। এছাড়া অধিদপ্তরের টিমের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের তদারকি সদস্যরা কাজ করছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। সদস্যরা আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে কোন পণ্য কী দামে কেনা ও বিক্রি হবে তা ইতোমধ্যে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ভেজাল ও মানহীন পণ্য উদ্ধারে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, তদারকিকালে কোনো ধরনের অনিয়ম পেলেই কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হবে। এছাড়া জরিমানাসহ জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (গবেষণা) দেওয়ান আসরাফুল হোসেন শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা প্রথমে পণ্যের মূল্য পর্যালোচনা করি। এই মূল্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, র‌্যাব, সিটি করপোরেশনসহ একাধিক সংস্থার কাছে পাঠাই। তারা মাঠ পর্যায়ে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকি টিমের সঙ্গে আমাদের অফিসাররাও সংযুক্ত থাকে। তিনি জানান, বছরের পুরো সময় পণ্যমূল্য সহনীয় রাখতে তদারকি করা হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রমজান ঘিরে বাড়তি নজরদারি থাকে। আর এবার রমজান আসার আগেই তদারকি শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে র‌্যাব সূত্র জানায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বছরজুড়ে সার্বিক অভিযান অব্যাহত আছে। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, অভিযান আরও জোরদার হবে। কারণ রমজানে খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল খাবার বিক্রি করে। তাই ভেজাল খাবারসহ বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, পেঁয়াজ ইস্যুতে এখনও টিসিবির পক্ষ থেকে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি চলছে। এছাড়া রমজানে আরও কয়েকটি পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি হবে। যাতে সার্বিকভাবে পণ্যমূল্যের দাম সহনীয় থাকে।সূত্র যুগান্তর

সময়কাল নিউজ