সময়কাল নিউজ
সময়কাল নিউজ

সরাইলে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় তিনশ বিঘা জমির ধান নষ্ট

মোঃ আল-মামুন খান সরাইল থেকে:  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ এলাকার মেসার্স শাহীন ব্রিকসের বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রায় তিনশ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চুন্টা ইউনিয়নের করাতকান্দি গ্রামের কৃষকেদের প্রায় কুটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেছে এলাকাবাসী। ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফসল নষ্ট হয়েছে মর্মে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর শতাধিক স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে স্থানীয় কৃষকরা। লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় এক হাজার বিঘা কৃষি জমি ধান ক্ষেতের মধ্যবর্তী স্থানে গড়ে উঠেছে মেসার্স শাহীন ব্রিকস নামের একটি ইট ভাটা। এই ইট ভাটার চিমনি দিয়ে বিষাক্ত ও দূর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়া বের হতে থাকে, সাথে সাথে ক্ষয়-ক্ষতি বুঝা না গেলেও পরের দিন কৃষকরা দেখতে পান তাদের ক্ষেতের ধান ও আশে পাশের গাছ পালার ফল, পাতাসহ কুঁকড়ে যাচ্ছে। এই বিষাক্ত ধোঁয়া ছাড়ার পর জমিতে ফলনকৃত ধানে কালো রং ধরে ধানগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে করাতকান্দি গ্রামের কৃষক মরম আলী, ফুল মিয়া, আরব আলী, সুলতান আলী, ইদ্রিস আলী জানান, তাদের জমির ধান একেবারে পুড়ে গেছে। ধানের গাছও পুড়ে গেছে এবং বাড়ির চারপাশের আম-কাঁঠাল ও অন্যান্য গাছের পাতা কুঁকড়ে গেছে। ফলগুলো ঝরে পড়েছে। তারা আরো জানান, কৃষি জমিতে ধান চাষ করে এই এলাকার হাজার কৃষক জীবিকা নির্বাহ করে থাকি, আমরা ধার দেনা করে জমিতে ধান চাষ করেছি, ইটভাটার ধোঁয়ার জন্য আমাদের সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে তাই আমাদেরকে এখন পথে বসা ছাড়া কোন উপায় নাই।

চুন্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান মিয়া জানান, আমার ইউনিয়নের করাতকান্দি গ্রামের শতাধিক কৃষকের প্রায় কয়েক’শ বিঘা জমির ধান ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় নষ্ট হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। তারাও দেখে গেছেন। এখন ভাটার মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তিনি আরও জানান, সরাইল অরুয়াইল সড়কের দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পের চুন্টা আশা বিলের সংযুক্ত সড়কটির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় কৃষক মাঠ থেকে ধান আনতে মারাত্বক অসুবিধায় পড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন মনি সূত্রধর জানান, আমি সরেজমিনে তদন্ত করেছি ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কয়েকশ’ বিঘা জমির ফসল পুড়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরী হচ্ছে।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ,এস, এম মোসা বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকার কাজ চলছে। শতাধিক কৃষকের প্রায় কয়েক’শ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্তে করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ইটভাটার ম্যনেজার সোহাগ উদ্দিন গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবারে মুখ খুলেনী।
ইটভাটার মালিক শফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়েছে বলে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ভাটার ধোঁয়ায় ফসল নষ্ট হয়নি। আপনারা যাঁচাই করেন যদি এ ধোঁয়ায় ফসল নষ্ট হয়ে থাকে তাহলে আমি ক্ষতি পূরণ দিতে বাধ্য আছি।

সময়কাল নিউজ