সময়কাল নিউজ
সময়কাল নিউজ

৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ হবে সরাইলে

বিশেষ প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল মেঘনা নদী তীরবর্তী রাজাপুর গ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর গ্রাম পর্যন্ত ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘নদী তীর রক্ষা বাঁধ’ নির্মাণ হচ্ছে। এতে উপজেলার অরুয়াইল ইউপির রাজাপুর, কাকরিয়া, সিঙ্গাপুর ও চর কাকরিয়া এই চার গ্রাম নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পাবে। ইতোমধ্যে এ বাঁধ নির্মাণের মালামাল আনা শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের থাকার জন্যে শেড নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী সেই চার গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ বইছে। গ্রামবাসী তাদের দীর্ঘ বছরের দুঃখ লাঘবের জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ইউপির সাবেক সফল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাকিমকে নিয়ে তারা গর্ববোধ করছেন, যিনি এ বাঁধ নির্মাণ করাতে বিগত ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে গেছেন।
কাকরিয়া গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আসিফ ইকবাল খোকন বলেন মূলত আমাদের বাড়ী ছিল রাজাপুর গ্রামে। অনুমান ৪৫ বছর আগে নদী ভাঙ্গনে ঘরবাড়ী বিলীন হয়ে গেলে আমরা কাকরিয়া গ্রামে নতুনভাবে বাসস্থান গড়ে তুলি। শুধু আমরাই নই, নদী ভাঙ্গনে এ গ্রামের অন্তত দুই শতাধিক পরিবার তাদের ভিটামাটি হারিয়েছেন। এখনও এখানে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত আছে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাকিম বলেন এখানকার নদী ভাঙ্গনে আমার বাপ-দাদার ভিটামাটি ১৯৭২ সালে বিলীন হয়ে গেছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানসহ রাজাপুর গ্রামের শত শত বাড়ী নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে। আমার অঙ্গীকার ছিল আমাদের মতো এখানকার নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর আর কোন পরিবার যেন ভিটামাটি হারা না হন। সকলের সহযোগিতায় আমি এতে সফল হয়েছি। এতে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
এ বিষয়ে গতকাল রবিবার (১৩ অক্টোবর) পানি উন্নয়ন বোর্ড এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন মেঘনা নদী তীরবর্তী রাজাপুর থেকে সিঙ্গাপুর গ্রাম এলাকা পর্যন্ত ৩৯ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১২০০ মিটার দৈর্ঘ্য নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এ কাজ তিন স্তরে বাস্তবায়ন হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের টেন্ডার পেয়েছে ঢাকার মেসার্স ডলি কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তৃতীয় স্তরের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। কয়েকদিনের মধ্যে সেখানে পাথরের ব্লক তৈরির কাজ শুরুর পর বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

সময়কাল নিউজ